আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের বিরোধে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা গত তিন দিন ধারাবাহিকভাবে সড়ক অবরোধ চালিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় শিবির স্থাপন করে, সাইনবোর্ড ও ব্যানার দিয়ে তাদের দাবি স্পষ্ট করে তুলেছে; তারা নতুন সচিবালয়কে পুরাতন সরকারি ভবনের পরিবর্তে ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে অনুপযুক্ত বলে গণ্য করে। অবরোধের ফলে আগারগাঁওয়ের প্রধান রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা দৈনন্দিন যাতায়াত, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিশাল ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে এবং শহরের নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত বাড়িয়ে তুলেছে।
সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা সরকারী দপ্তরের আধুনিকায়ন ও নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছিল; নতুন ভবনটি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের ঠিক পাশে নির্মাণের কথা ছিল, যেখানে বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতি থেকে তীব্র বিরোধের মুখোমুখি হয়। তারা যুক্তি দেয় যে, ঐতিহাসিক মেলার মাঠের ভূমি শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সবুজায়নের জন্য অপরিহার্য, আর নতুন সচিবালয়ের জন্য অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণে পরিবেশগত ক্ষতি এবং নগর ট্রাফিকের অতিরিক্ত চাপ বাড়বে। অতএব, এই প্রকল্পের পেছনে স্বচ্ছতা ও জনপরামর্শের অভাবকে মূল অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শেকৃবির শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা একাধিকবার মিডিয়ার সামনে তাদের মতামত প্রকাশ করে, যেখানে তারা সরকারকে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানায় এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা জানায় যে, তারা কোনো সহিংসতা না করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বজায় রাখবে, তবে সরকার যদি তাদের চাহিদা উপেক্ষা করে তবে তারা অবরোধ বাড়িয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, অবরোধের ফলে দৈনন্দিন বাণিজ্যিক লেনদেনে ক্ষতি হয়েছে এবং জরুরি সেবা প্রদানেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ শিক্ষার্থীদের দাবিকে সমর্থন করে, আবার অন্যরা দৈনন্দিন জীবনের অস্বস্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।
অবশেষে, সড়ক অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ কঠোর নজরদারি চালু করেছে এবং অবরোধের সময়সূচি অনুযায়ী ট্রাফিক রিডাইরেকশন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারী দপ্তরও এই বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক করে, যেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন ও জনপরামর্শের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নগর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা করার চেষ্টা করবে এবং প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে। ভবিষ্যতে, যদি সমন্বিত সমাধান না পাওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত আইনগত পদক্ষেপ ও উচ্চতর পর্যায়ের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।