গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গত রাত্রি সাড়ে তিন ঘণ্টা পর দুইটি বৃহৎ গুদামে একসাথে আগুন লেগে যায়। গুদামগুলোতে সংরক্ষিত কাঁচামাল ও পণ্যদ্রব্যের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আশেপাশের কয়েকটি গৃহস্থালির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে প্রায় তিন ঘণ্টা পরই আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, গুদামগুলোর সম্পূর্ণ ধ্বংসের ফলে প্রায় একশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গাজীপুরের এই শিল্পকেন্দ্রটি দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনশীল এলাকা, যেখানে রেডি-গুডস, ইলেকট্রনিক্স ও টেক্সটাইল সংক্রান্ত বহু কারখানা অবস্থিত। অতীতেও একই অঞ্চলে নিরাপত্তা মানদণ্ডের অভাবের কারণে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে একটি গুদামে লেগে থাকা আগুনে প্রায় দুইশো কর্মীর কাজের সময় ক্ষতি হয়। নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততা এই ধরনের দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর গুদাম মালিকদের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “অপ্রত্যাশিত বৈদ্যুতিক ত্রুটি ও অযথা সংরক্ষণ পদ্ধতি এই দুঃখজনক ঘটনার মূল কারণ”। গাজীপুরের জেলা অগ্নি সেবা প্রধান জানান, “দ্রুত সাড়া ও সঠিক সমন্বয়ের ফলে প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক”। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবারই অগ্নিকাণ্ডের পরই আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে; সরকার যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়”।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও শিল্প মন্ত্রণালয় একত্রে একটি তদারকি কমিটি গঠন করে, যা অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধান করবে এবং সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করবে। তদুপরি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা চালু করা হবে এবং ভবিষ্যতে অগ্নি প্রতিরোধে আধুনিক অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন করে, প্রয়োজনীয় সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।