অজয় বাঙ্গা, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, গতকাল জাতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন যে, আগামী পনেরো বছরে বিশ্বজনসংখ্যার প্রায় একশত বিশ কোটি তরুণের জন্য শুধুমাত্র চল্লিশ কোটি কর্মসংস্থানই উপলব্ধ হবে। এই পূর্বাভাস দেশের শ্রমবাজারে তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। বাঙ্গা জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়; যথাযথ নীতি ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জটি মোকাবিলা করা সম্ভব। তার বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও যুব নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার গত দশকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ২০২৪ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় একশত ছয় দশ কোটি পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি তরুণ বয়সের (১৫-৩৪ বছর) গোষ্ঠী গঠন করে, যা কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। অতীতে সরকারি কর্মসূচি যেমন 'স্মার্ট গ্রাম' ও 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' মূলত অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত ছিল, তবে দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পায়নের দিক থেকে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার পরিপূরক প্রশিক্ষণ ও বাস্তবিক কাজের অভাবের ফাঁক বাড়তে থাকে।

সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় এই পূর্বাভাসের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা ও কর সুবিধা প্রদান ছাড়া শিল্পের প্রসার সম্ভব নয়। যুব সংস্থাগুলি সরকারকে দ্রুত স্কিল ডেভেলপমেন্ট কেন্দ্র স্থাপন ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান জানায়। সাধারণ তরুণদের মধ্যে এই তথ্যের প্রতিক্রিয়া মিশ্র; কেউ আশাবাদী, কেউ চাকরি না পাওয়ার ভয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতিমধ্যে 'জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা' প্রণয়ন করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে ৫০ কোটি নতুন দক্ষ কর্মী তৈরি করা। পরিকল্পনায় টেকসই শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানো, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তহবিল সংগ্রহ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর করা হবে বলে ঘোষিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করেন, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আগামী দশকে কর্মসংস্থান ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।