সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহপরিদর্শনসূচি শুরু হয় এবং বেলা ১টা ৪১ মিনিটে সমাপ্তি পায়। এই অল্প সময়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, মোট তেরটি স্থান, পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরের পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা, সেবা মান এবং নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা যাচাই করা। আজিমপুরে অপরিচ্ছন্নতার দৃশ্য দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এই ঘটনাটি দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পূর্বে ঢাকা শহরে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত বহু অভিযোগ উঠে আসছে। গত বছর থেকে নগর পরিষেবা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হলেও, বিশেষ করে পুরনো বাসস্থান ও বাজার এলাকায় ময়লা জমা, নিকাশী সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। আজিমপুর, যা ঐতিহাসিকভাবে জনবহুল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সেখানে অপর্যাপ্ত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত বর্জ্য সংগ্রহের ফলে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। এসব পটভূমি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এই এলাকায় সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করেন, যাতে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা যায়।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি স্থানীয় প্রশাসক ও পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের আহ্বান জানান। আজিমপুরের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আশাবাদী হলেও, একই সঙ্গে তারা দীর্ঘদিনের অবহেলার জন্য হতাশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় মেয়র ও পৌরসভার প্রধান কর্মকর্তাও সমস্যার সমাধানে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, আধুনিক বর্জ্য সংগ্রহ যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। জনমত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ নাগরিক পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা ও ত্বরিত কার্যকরী পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।
পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুরসহ নির্ধারিত এলাকায় অতিরিক্ত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোতায়েন করবে এবং বর্জ্য সংগ্রহের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করবে। পাশাপাশি, নগর পরিষেবা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং ডিজিটাল তদারকি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনকে নিয়মিত করা হবে, যাতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা পায় এবং শহরের পরিবেশগত মান উন্নত হয়।