গত সপ্তাহে রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বৃহৎ হলগুলোতে অনুষ্ঠিত বিদেশে উচ্চশিক্ষা মেলায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পরামর্শক সংস্থার প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাগত জানায়। মেলায় একাধিক সেমিনার, তথ্যবহুল সেশন ও এক-এক করে পরামর্শের সুযোগ প্রদান করা হয়, ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, আর্থিক সহায়তা ও স্কলারশিপের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই মেলাটি দেশের উচ্চশিক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বহন করে, কারণ বিদেশে পড়াশোনার চাহিদা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহের পটভূমি বহুস্তরীয়। প্রথমত, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ড ও গবেষণা পরিবেশকে অধিক মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয়ত, সরকারগতভাবে উচ্চশিক্ষা উন্নয়নের জন্য ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নীতি ২০২২’ চালু করা হয়েছে, যার অধীনে বিদেশে পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তা ও স্কলারশিপের কাঠামো সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত অনুরূপ মেলাগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে, এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।
মেলায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত প্রকাশ করেছেন। এক দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, রাহুল হক, বলেছিলেন, “বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পেয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী বোধ করছি।” তার মা, শারমিন হক, যুক্তি দেন, “স্কলারশিপের শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া পরিষ্কারভাবে জানার ফলে আর্থিক দিক থেকে উদ্বেগ কমে গেছে।” শিক্ষা পরামর্শক সংস্থার প্রতিনিধি, মি. রশিদুল ইসলাম, উল্লেখ করেন, “এই মেলাটি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, যা পূর্বে কাগজপত্রের জটিলতা কমিয়েছে।” একই সঙ্গে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান, ড. সুমাইয়া বেগম, মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষা আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম মূলধন, এবং এ ধরনের মেলা তা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
অধিকতর পদক্ষেপের দিক থেকে সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি নীতি প্রণয়ন করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম চালু করেছে এবং স্কলারশিপের জন্য নতুন তহবিল বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করবে, যেখানে তারা ভিসা, আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সমন্বিত সেবা পাবে। ভবিষ্যতে, মেলাটিকে বার্ষিক ভিত্তিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখতে পারে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।