গতকাল সন্ধ্যাবেলা ঢাকা শহরের এক ব্যস্ত নগর এলাকায় নালার পাশে মাটিতে একদিন বয়সী নবজাতক শিশুটি শুয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির কান্না শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী এক ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে সাহায্য চায়, ফলে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। শিশুটির শ্বাস‑প্রশ্বাস অস্থির হলেও তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক সেবা প্রদান করা হয় এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে নিরাপদে রক্ষা করেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের তৎপরতা ও সমবেদনা প্রকাশের একটি উদাহরণ হিসেবে তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
শহরের পুরনো নালার অবস্থা ও অপর্যাপ্ত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতার সমস্যাগুলি দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। অতীতে অনুরূপ ঘটনায় শিশুরা নালার পানিতে ডুবে যাওয়া বা গর্ভবতী নারীর গর্ভপাতের খবর শোনা গিয়েছে। নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে নগর এলাকায় অনিয়মিত নির্মাণ, নালার অবরোধ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের অপ্রতুলতা শিশুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে নবজাতকের উদ্ধার ঘটনাটি নালার নিরাপত্তা ও নগর পরিষেবার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
শিশুটিকে প্রথমে আবিষ্কার করা ব্যক্তি, যিনি নিজে স্থানীয় বাজারে বিক্রয়কারী, তিনি বলেন, “শিশুটির কান্না শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদয় থেমে গিয়েছিল; তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে সাহায্য চাইলাম, আর সবাই দ্রুত এসে শিশুটিকে সুরক্ষিত করল।” নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ডাঃ রেহানা বেগম জানান, “শিশুটির শ্বাস‑প্রশ্বাসে সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেল, তবে দ্রুত সিপিআর ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে শিশুটি স্থিতিশীল হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে মানবিক সহানুভূতির উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে নালার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
স্থানীয় পৌরসভার স্বাস্থ্য ও নগর পরিষেবা বিভাগ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তদন্ত দল গঠন করে এবং নালার অবস্থা যাচাই করে। তারা জানিয়েছে, নালার পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ত্রৈমাসিক পরিদর্শন চালু করা হবে এবং অবরোধকারী বর্জ্য অপসারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সেবা বিভাগকে অবিলম্বে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শিশুটির জন্য অস্থায়ী সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, জরুরি সেবা প্রশিক্ষণ এবং নালার নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।