বান্দরবান জেলার রাঙ্গামাটি উপজেলায় গত তিন দিন ধরে তিন কিশোরী মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় পুরো দেশ জুড়ে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটেছে। ১৫ই মার্চ সন্ধ্যাবেলায় রাঙ্গামাটি বাজারের নিকটবর্তী এক বনের পথে এই কিশোরী মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর পর ফিরে আসেনি। পরিবার ও প্রতিবেশীরা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশকে জানায় এবং অনুসন্ধান শুরু হয়, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা রাতারাতি অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অগ্রগতি সীমিত।
বান্দরবানের পাহাড়ি ভূখণ্ড ও জটিল গুহা নেটওয়ার্ক পূর্বে বহুবার নিখোঁজের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অতীতের সংঘাত, মাদক পাচার ও অবৈধ কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় অনুসন্ধানকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় পুলিশ পূর্বে একই অঞ্চলে কয়েকটি অনুরূপ ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ফুটেজ ব্যবহার করে অপরাধী সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এইবার সিসিটিভি ক্যামেরার ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব অনুসন্ধানকে বাধাগ্রস্ত করছে।
পরিবারের মুখে শোক ও উদ্বেগের ছায়া ছড়িয়ে আছে; মা রেহানা বলেন, “আমাদের সন্তানদের ফিরে পেতে আমরা সব কিছু করতে প্রস্তুত।” স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় গোষ্ঠীও সমবেত হয়ে শোকসভা ও সন্ধ্যাবেলা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে #বান্দরবানমিসিংগার্লস হ্যাশট্যাগে প্রচুর মন্তব্য ও তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে, যেখানে কিছু নাগরিক সন্দেহজনক গাড়ি ও ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ও এই ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, পরিবারকে মানসিক সহায়তা ও দ্রুত অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে।
অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনী এখন পর্যন্ত ২০০ টির বেশি স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, রেঞ্জার ও সিএইচটিভি টেকনিশিয়ানকে একত্রিত করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সিসিটিভি ফুটেজের জন্য স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল ও গ্যাস স্টেশন থেকে রেকর্ড সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে এবং আদালতের আদেশের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরায় না ঘটে।