ঢাকার একটি পরিবারে বিবাহ নিবন্ধনের গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কের পর আদালত সিদ্ধান্তে এসেছে যে বিবাহে লুকোচুরি সম্ভব নয়। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিচারক মি. রাহমান সুলতান রায় দিয়েছেন যে, বিবাহ নিবন্ধন ফর্মে সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো রেকর্ড স্বীকৃত হবে না। মামলায় জড়িত দম্পতি, মিসেস সারা ও মি. রাহুল, ২০১৯ সালে গোপনীয়ভাবে বিবাহ নিবন্ধন করেছিল কিন্তু পরে আবিষ্কৃত হয় যে তারা উভয়ই পূর্বে বিবাহিত ছিল। আদালত তাদের বিবাহ বাতিল করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোপনীয় বিবাহের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে শহুরে এলাকায়, কিছু দম্পতি সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে গোপনীয়ভাবে বিবাহ নিবন্ধন করে। ২০২২ সালে ঢাকা জেলা আদালতে ১৫টি অনুরূপ মামলার রায় দেওয়া হয়, যেখানে আদালত গোপনীয় বিবাহকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। তবে, এই রায়গুলোতে প্রমাণের অভাবের কারণে অনেক দম্পতি এখনও গোপনীয়ভাবে বিবাহ করছে। এই পরিস্থিতি বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সত্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মামলার পক্ষের আইনজীবী মি. হোসেন বলেন, ‘আমাদের ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা রক্ষা করা উচিত, কিন্তু আইন অনুযায়ী সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক।’ মিসেস সারা ও মি. রাহুল আদালতে আবেগপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি, কিন্তু আমাদের পরিবারকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাই।’ বিচারক রাহমান সুলতান বলেন, ‘বিবাহ একটি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যা স্বচ্ছতা ও সত্যতার উপর নির্ভরশীল।’ জনসাধারণের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই বলেছেন, ‘এভাবে গোপনীয় বিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত।’
সিভিল রেজিস্ট্রেশন বিভাগ এই রায়ের পর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে বিবাহ নিবন্ধনের সময় উভয় পক্ষের পরিচয়পত্র ও পূর্ববর্তী বিবাহের প্রমাণাদি জমা দিতে হবে। এছাড়া, অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালেও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে, যাতে গোপনীয় বিবাহের ঘটনা কমানো যায়। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপগুলো বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে সমাজে বিশ্বাস স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।