আজকের সকালে ঢাকা শহরের বাসস পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি বোর্ডের নতুন রূপান্তর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যার লক্ষ্য শহরের বাস পরিষেবাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তোলা। শিকদার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, সময়মতো এবং সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’ এই ঘোষণাটি শহরের জনপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বাসস পরিচালনা বোর্ডের ইতিহাসে বহুবার যাত্রীদের অভিযোগ ও সেবার গুণগত মান নিয়ে সমালোচনা উঠে এসেছে। ২০১০ সাল থেকে বোর্ডটি বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সেগুলি প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শিকদারের নতুন পরিকল্পনায় বাসের আধুনিকীকরণ, রুটের পুনর্বিন্যাস এবং যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ এবং পরিবহন জটিলতা কমানোর প্রয়োজন।
শিকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের মতামত শুনে সেবা উন্নত করব। নতুন বাসে আরামদায়ক আসন, সঠিক সময়সূচি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’ যাত্রী সমিতির সভাপতি মেহেদী রায়ও বলেন, ‘এই উদ্যোগে আমরা আশাবাদী, তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন।’ অন্যদিকে, বিরোধী দলের প্রতিনিধি আলমা জাহানও বলেন, ‘শুধু পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, বরং তহবিল ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।’
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নতুন বাসের ক্রয় ও রুট পুনর্বিন্যাসের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন বাস চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা চালু করার জন্য আইটি বিভাগে বিশেষ প্রকল্প শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে বোর্ডটি নিয়মিতভাবে যাত্রীদের মতামত সংগ্রহ করে সেবার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপগুলো শহরের জনপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।