গতকাল সন্ধ্যা সময়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরীর অকাল মৃত্যু সংবাদে সারা দেশে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। চৌধুরী ১৯৭৩ সালে জাপান এবং ১৯৭৬ সালে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন; তার এই দায়িত্বকাল দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার মৃত্যুর ফলে দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গভীর প্রভাব ফেলবে।
আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতি রূপায়ণে অবদান রাখেন। কূটনৈতিক মঞ্চে তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাপান ও জার্মানিতে তার মিশনকালে তিনি বহু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল, সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষই শোক প্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “তাঁর দেশপ্রেমিক মনোভাব ও কূটনৈতিক দক্ষতা আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।” বিএনপির নেতা ও অন্যান্য রাজনৈতিক বিশারদও তার অবদানের প্রশংসা করে শোকের কথা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে তার কর্মজীবনের স্মরণে সমবেত হয়ে শোকের বার্তা শেয়ার করেছে, যা দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিদর্শন।
সরকারি কর্তৃপক্ষ মৃতদেহের যথাযথ শোভাযাত্রা ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত চৌধুরীর পরিবারকে সরকারী সহায়তা প্রদান করা হবে এবং তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শৌর্যপদক প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও সংবিধানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে তার আদর্শকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞদের গঠন করা হবে। এভাবে দেশের কূটনৈতিক ও সংবিধানিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করার দিক থেকে তার স্মৃতি চিরস্থায়ী হবে।