প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
জাতীয়

ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

গত সপ্তাহে রাজধানীর জাতীয় সম্মেলন হলের প্রধান হলের মঞ্চে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 7, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 02:49 PM
ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

গত সপ্তাহে রাজধানীর জাতীয় সম্মেলন হলের প্রধান হলের মঞ্চে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে ধর্ম‑বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয় কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও উন্নয়নের পথে বাধা হতে পারবে না; আমাদের সংবিধানই তা নিশ্চিত করেছে।’ এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের গুরুত্ব ও সমন্বিত নীতি গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা দেশের সামাজিক সংহতি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা সত্ত্বেও অতীতের কিছু ঘটনার ফলে ধর্ম‑বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ১৯৭১‑এর পর থেকে বহু সরকার ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মনোযোগ আকর্ষণ পেয়েছে। এ পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেকের এই অঙ্গীকারটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা শ্রী শিবানন্দ দাস এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ভিক্রমা সিংহ উভয়েই সরকারের এই অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। শিবানন্দ দাস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের অধিকারের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে আমরা আশা করি বাস্তবিক পদক্ষেপে রূপান্তর হবে।’ ভিক্রমা সিংহও যোগ করেন, ‘ধর্ম‑বর্ণ নির্বিশেষে সমান সুযোগের নিশ্চয়তা আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’ তবে কিছু বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠন এই ঘোষণার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানায় এবং দাবি করে যে, কেবল ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; সুনির্দিষ্ট নীতি ও আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি মূল পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। প্রথমত, সকল সরকারি সংস্থায় ধর্ম‑বর্ণভিত্তিক বৈষম্য রোধে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ স্কলারশিপ ও স্বাস্থ্য বীমা স্কিম চালু করা হবে। তৃতীয়ত, সংবিধানের ধারা ২০ ও ৩১ সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও সমান সুযোগের আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। সরকার এই নীতিগুলোর কার্যকরী পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধর্ম‑বর্ণভিত্তিক বৈষম্য দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবেলা করা যায়।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.