প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
রাজনীতি

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচ্য নয়, আইনেও বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাসঙ্গিকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুল হক আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 12:37 PM
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচ্য নয়, আইনেও বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাসঙ্গিকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুল হক আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণে শিক্ষা মাত্রা বিবেচনা করা হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমতা নীতির লঙ্ঘন হতে পারে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণ উভয়ই প্রশ্ন তুলেছে যে, শিক্ষাগত মানদণ্ড বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে গুণগত মান বজায় রাখবে।

এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে দেশের বিভিন্ন সময়ে প্রযোজ্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত বিধান। ১৯৯৯ সালের স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে পরবর্তী সংশোধনীতে তা বাতিল করা হয়নি। অতএব, পূর্বে কিছু রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী শিক্ষাগত মানদণ্ডকে ভোটারদের সচেতনতা ও নেতৃত্বের গুণগত মানের সূচক হিসেবে ব্যবহার করার দাবি করে আসছে। তবে, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারা নেই যা শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক করে, তাই প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য বর্তমান আইনি ফাঁককে তুলে ধরছে।

প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া তীব্রতা পেয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই শিক্ষাগত যোগ্যতা বাদ দেওয়া প্রার্থী নির্বাচনের মান হ্রাসের সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। শিক্ষাবিদ ও নাগরিক অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা বলছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে প্রার্থীর নীতি-নির্ধারণ ক্ষমতা ও জনসেবা প্রদান ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা ভোটাররা শিক্ষাগত মানদণ্ডকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করে, কারণ তারা প্রার্থীর স্থানীয় পরিচিতি ও বাস্তবিক কাজের ভিত্তিতে ভোট দিতে চান। এই বৈচিত্র্যময় মতামত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

এখন নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা শুরু করেছে। কমিশন জানিয়েছে যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত কোনো বিধান পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। তদুপরি, কমিশন প্রাথমিকভাবে প্রার্থীর ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণে অন্যান্য মানদণ্ড, যেমন অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা, বিবেচনা করবে। ভবিষ্যতে যদি শিক্ষাগত যোগ্যতা পুনরায় বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে তা সংশোধনী আইন বা নতুন বিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, যা সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.