প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
জাতীয়

দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব বিস্তারকারী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বর্তমানে দ্রুতগতিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলে
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 29, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 02:42 PM
দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব বিস্তারকারী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বর্তমানে দ্রুতগতিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন আর আগের মতোই শক্তিশালী নয় এবং এটি ধীরে ধীরে একটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছে। তবে, যদিও ঝড়ের তীব্রতা কমেছে, তবুও এর অবশিষ্টাংশ দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুর বিভাগের কিছু জেলায় আকাশে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রবল হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা জনজীবনে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর উৎপত্তি ও প্রবাহের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলরাশিতে গঠিত হয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের মাধ্যমে ভেতরের দিকে এগোয়ার সময় ঝড়টির গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে এবং স্থলভাগের ঘর্ষণের কারণে এর শক্তি কমে গেছে। এর ফলে ঝড়টি এখন আর আগের মতোই বিপর্যয়কর অবস্থায় নেই, তবে এর সাথে যুক্ত আর্দ্রতাবাহী বাতাস দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে প্রবেশ করে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি করছে। এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি বাংলাদেশের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বা শেষের দিকে যখন আবহাওয়া অস্থির থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া মিশ্র স্বভাবের। একদিকে, ঝড়ের দুর্বল হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা হচ্ছে, কারণ এটি বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদ ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের বাসিন্দারা ভারী বৃষ্টির কারণে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে। অনেক ব্যবসায়ী ও যাত্রীরাও বৃষ্টির কারণে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বাধার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করতে এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে, তবে আর্দ্রতাবাহী বাতাসের প্রভাবে অস্থির আবহাওয়া কিছুটা সময় আরও বিরাজ করতে পারে। জনসাধারণকে বৃষ্টির সময় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে, বিদ্যুৎ সংযোগের সাথে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সঠিক তথ্য প্রবাহ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই আবহাওয়া সংকট নিরাপদে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং দেশের সাধারণ জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক পথে ফিরে আসবে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.