প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
অর্থনীতি

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক গত সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৪ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, চলতি বছর শেষ নাগাদ গ্লোবাল পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পূর্বাভাসের
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 28, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 10:33 AM
বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক গত সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৪ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, চলতি বছর শেষ নাগাদ গ্লোবাল পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পূর্বাভাসের মূল কারণ হিসেবে তেলের সরবরাহের হ্রাস এবং চাহিদার পরিবর্তনকে উল্লেখ করা হয়েছে। তেল বিশ্ববাজারে মূলধারার শক্তি, এবং এর মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পণ্য ও সেবার মূল্যে প্রভাব ফেলবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ বাড়বে। তাই এই তথ্য নীতি নির্ধারক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের পটভূমিতে দেখা যায় যে, ২০২৪ সালে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ হ্রাস পাবে, যেখানে ব্যবহার ২.৫ শতাংশ কমবে। সরবরাহ হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধকে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি এবং জ্বালানি চাহিদার পরিবর্তন তেলের দামের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। অতএব, তেলের মূল্যের প্রত্যাশিত উত্থান অন্যান্য কাঁচামাল ও পরিবহন খরচের ওপরও প্রভাব ফেলবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পণ্যের মূল্যে প্রতিফলিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাসের পর দেশীয় আর্থিক মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত মন্তব্য প্রকাশ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, সরকার মূল্য স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য তেল আমদানি নীতি পুনর্বিবেচনা করবে এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে প্রণোদনা প্রদান করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর জোর দিয়ে বলেছেন যে, মুদ্রা নীতি সমন্বয় এবং সুদের হার সমন্বয় মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্যবসা সংস্থাগুলোও তেল মূল্যের ওঠানামা মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণে মনোযোগ দেবে। সাধারণ জনগণ তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালী ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, বিশেষত জ্বালানি, পরিবহন এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে তীব্র প্রভাব পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে তেল আমদানি বৈচিত্র্যকরণ, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, মুদ্রা নীতি সমন্বয়, সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসকে ভিত্তি করে সরকার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াবে। এ ধরনের সমন্বিত নীতি বাস্তবায়নই মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে মূল চাবিকাঠি হবে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.