প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
বিশেষ প্রতিবেদন

প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ

গত সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে এক ঐতিহাসিক প্রকল্পের সূচনা করা হয়, যার নাম 'প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ'। এই উদ্যোগের অধীনে দেশের ৬টি প্রধান জেলা—ঢাকা, চট্টগ্রাম,
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 27, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 01:09 PM
প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ

গত সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে এক ঐতিহাসিক প্রকল্পের সূচনা করা হয়, যার নাম 'প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ'। এই উদ্যোগের অধীনে দেশের ৬টি প্রধান জেলা—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট—এ একসাথে ১ লক্ষ গাছ রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছের রোপণ স্থান স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী স্থানে নির্ধারিত হয়েছে, যেমন পুরনো মন্দিরের প্রাঙ্গণ, ঐতিহাসিক বাগান ও গ্রাম্য পুকুরের পার্শ্ববর্তী এলাকা। রোপণ অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, যা প্রকৃতি সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।

গাছ রোপণকে জাতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে বহু বছরের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে বাংলার মানুষ বৃষ্টির ঋতুতে 'বনদিবস' ও 'বসন্ত উৎসব'ের সময় গাছ রোপণকে শুভ কাজ হিসেবে গণ্য করেছে। তবে সাম্প্রতিক দশকে নগরায়ন ও অবৈধ কাঠ কাটার ফলে বনভূমি দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, ফলে বায়ু দূষণ, বন্যা ও ভূমি ক্ষয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় সরকার ২০২২ সালে 'সবুজ বাংলাদেশ' পরিকল্পনা চালু করে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে গাছের আচ্ছাদন ৩৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা। 'প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ' প্রকল্পটি ঐ পরিকল্পনার একটি বাস্তবায়নমূলক ধাপ, যা ঐতিহ্যবাহী রীতি ও আধুনিক পরিবেশ নীতি একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।

উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রী ড. রেহানা বেগম উল্লেখ করেন, 'প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পরিবেশ রক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংহতি উভয়ই নিশ্চিত করে।' সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রীমতি সুমাইয়া চৌধুরীও যোগ দেন, 'প্রতিটি গাছের রোপণ আমাদের পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বের প্রতীক।' স্থানীয় গ্রাম প্রধান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রোপণকর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; বহু পরিবার রোপিত গাছের যত্ন নিতে স্বেচ্ছায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ শিক্ষার কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সরকার গাছের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করেছে, যা প্রতি ছয় মাসে রোপিত গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজনীয় সেচ ও সার প্রদান করবে। তদুপরি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল ও কলেজে 'গাছ রোপণ ক্লাব' প্রতিষ্ঠা করে, যাতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। ২০২৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৩ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, এবং তা সম্পন্ন হলে দেশের গাছের আচ্ছাদন ৪০ শতাংশ অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সরকারী সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.