বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ইংরেজি অংশে নতুন বাক্য পরিবর্তন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তন পরীক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা মূল্যায়নের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশিকায় বাক্য গঠন, শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণিক রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার সামগ্রিক কঠিনতা ও মানকে সমন্বিত করবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতি কর্মসূচি ত্বরান্বিত হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও উদ্বেগ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
পূর্বে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ইংরেজি অংশে মূলত সরল বাক্য রচনা ও শব্দভান্ডার ভিত্তিক প্রশ্নের ওপর জোর দেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারিক দক্ষতা পর্যাপ্ত না হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে, যা শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পুনর্বিবেচনার দরজা খুলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয় একটি ব্যাপক পর্যালোচনা পরিচালনা করে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নের কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নির্দেশিকায় বাক্য পরিবর্তনের ধরণে পারফেক্ট টেন্স, প্যাসিভ ভয়েস এবং শর্তসাপেক্ষ বাক্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সমগ্র ভাষা জ্ঞানকে সমন্বিতভাবে পরীক্ষা করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবাবৃন্দ এই পরিবর্তনকে “শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাধারা ও ভাষা বিশ্লেষণ ক্ষমতা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকদের সমিতি নতুন প্রশ্নপত্রের নমুনা নিয়ে আলোচনা করে এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিরা নতুন নির্দেশিকাকে “চ্যালেঞ্জিং হলেও সঠিক দিকনির্দেশনা” বলে স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও কিছু শিক্ষার্থী অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিভাবক সমিতি পরীক্ষার কঠিনতা বাড়ার ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্কতা জানিয়ে, যথাযথ মানসিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল প্রকাশ করবে এবং সকল সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজন করবে। এছাড়া, অনলাইন রিসোর্স এবং নমুনা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয় অনুশীলনের সুযোগ প্রদান করা হবে। পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার আগে এই প্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তিত কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করেছে।