গত ১২ আগস্ট সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা লক্ষ্যে দেশের সব শপিং মল, সুপারমার্কেট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কেন্দ্রকে রাত ৮টায় বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা মুলত বিদ্যুৎ চাহিদা হ্রাসের জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে গৃহীত, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোড শেডিং সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্দেশনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন সময়সূচি মেনে চলতে হবে এবং অমান্য করলে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়বে, বিশেষত সন্ধ্যা বেলায় কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তন আনবে।
শহর ও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে শপিং মলের রাতের বেলা খোলার সময় ১০ টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে দেখা গিয়েছে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত লোডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্বে সরকার কিছু বিশেষ এলাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত চালু রাখার অনুমতি দিয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ ঘাটতি ও গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে লোড শেডিং চালু করেছে, যা শিল্প, বাণিজ্য ও গৃহস্থালির দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তাই, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শপিং মলের বন্ধের সময়সূচি আগের ৮টায় ফিরিয়ে আনা একটি প্রাকৃতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দোকানদার ও ভোক্তাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজন স্বীকার করে, তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে সন্ধ্যা বেলায় কাজ শেষ হলে বিক্রয় হ্রাস পাবে, বিশেষত কাজের দিন শেষে কর্মচারী ও ছাত্রদের কেনাকাটার সুযোগ কমে যাবে। অন্যদিকে, ভোক্তারা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ লোড শেডিং কমে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে স্বাচ্ছন্দ্য হবে। শপিং মলের ব্যবস্থাপনা দলগুলো নতুন সময়সূচি মেনে চলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, কর্মী শিফট সমন্বয়, ক্যাশ রেজিস্টার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
অধিকর্তারা নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং শপিং মলের বন্ধের সময়সূচি মেনে না চললে জরিমানা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় পৌরসভা সমন্বয়ে র্যান্ডম চেক চালু করা হবে, যাতে নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ চাহিদা হ্রাসের জন্য আরও শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে, শিল্প ও বাণিজ্যের কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য রাখছে।