প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
জাতীয়

নদীপথে হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি, অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশও

গত সন্ধ্যাবেলা দেশের বিশাল নৌপথে একাধিক হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি সংঘটিত হয়েছে; অভিযানে গিয়েও পুলিশ দলকে চিহ্নিত করে গুলিবিদ্ধ করা হয়। দুর্গম চর ও মোহনায় ন
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 24, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 04:54 PM
নদীপথে হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি, অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশও

গত সন্ধ্যাবেলা দেশের বিশাল নৌপথে একাধিক হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি সংঘটিত হয়েছে; অভিযানে গিয়েও পুলিশ দলকে চিহ্নিত করে গুলিবিদ্ধ করা হয়। দুর্গম চর ও মোহনায় নিরাপত্তাহীনতার ফাঁকে নৌযাত্রীরা হুমকির মুখে পড়েছে; কয়েকটি নৌকা হঠাৎ আক্রমণের শিকার হয়ে ভাসমান জাহাজে রক্তের দাগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, আক্রমণকারী গোষ্ঠী দ্রুতগতিতে নৌকা থামিয়ে গুলি চালায় এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে। এই ঘটনা দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকাশ করে, যা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

নদীপথের নিরাপত্তা সমস্যার পটভূমি বহু বছর আগে থেকেই বিদ্যমান। দেশের প্রধান নৌপথগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা, রাডার ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা যদিও করা হয়েছিল, তবে বাজেটের ঘাটতি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে চর ও মোহনা অঞ্চলে রাস্তাঘাটের অভাব, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুপস্থিতি এবং দুর্বল পুলিশ উপস্থিতি আক্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছে। পূর্বে একই রকম চাঁদাবাজি ও ডাকাতি ঘটলেও তা সীমিত পরিসরে রয়ে গিয়েছিল; তবে সম্প্রতি নৌযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে আক্রমণকারীরা বৃহত্তর লাভের আশায় এই অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

ঘটনা ঘটার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুলিশ প্রধান বলেন, “আমরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি, তবে আক্রমণকারী গোষ্ঠী দ্রুত সরে গিয়েছে; কয়েকজন সহকর্মী আহত হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি।” স্থানীয় বাসিন্দা রশিদুল হক জানান, “নদীর ধারে রাতে হাঁটা এখন নিরাপদ নয়, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।” মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি শ্রীমতি ফারহানা জাহান উল্লেখ করেন, “নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ক্ষতি হবে এবং গ্রামীণ জনগণের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।” এসব মন্তব্যের ভিত্তিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অধিকাংশ নিরাপত্তা সংস্থা এখন ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার জরুরি ভিত্তিতে নৌপথে অতিরিক্ত গার্ডি শিপ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে; পাশাপাশি রাডার ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা হবে। সমুদ্র ও নদী নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও গ্রাম উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নজরদারি কেন্দ্র গঠন করা হবে, যেখানে রিয়েল‑টাইম তথ্য শেয়ার করা হবে। ভবিষ্যতে নৌযাত্রীদের জন্য জরুরি কল সেন্টার চালু করা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নৌপথের নিরাপত্তা পুনর্গঠন ও আক্রমণকারীদের দমন করা সম্ভব হবে, যা দেশের সমগ্র নৌপরিবহন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.