প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
আন্তজাতিক

প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর, কী উদ্দেশ্যে এই সফর

চরমোনাই পীর রেজাউল করীম প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণে গেছেন। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্কের জে.এফ.কে. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 23, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 09:55 AM
প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর, কী উদ্দেশ্যে এই সফর

চরমোনাই পীর রেজাউল করীম প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণে গেছেন। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্কের জে.এফ.কে. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ধারাবাহিকতা শুরু করেন। এই সফরটি ‘দাওয়াতি সফর’ শিরোনামে পরিকল্পিত, যার মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী দাওয়াতার পরিচিতি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করা। রেজাউল করীমের এই সফরকে দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় গর্বের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের ইতিবাচক চিত্র উপস্থাপনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কের মসজিদে ধর্মীয় বক্তৃতা দেন, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম যুব সংগঠনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন, যা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমর্থন ও প্রচার করার লক্ষ্যকে সুদৃঢ় করে।

চরমোনাই পীর রেজাউল করীম বাংলাদেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৯০-এর দশকে দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামিক শিক্ষা ও সামাজিক সেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পূর্বে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বহু দাওয়াতি সফর সম্পন্ন করেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম ভ্রমণটি দেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন দিক উন্মোচন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংলাপ ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা দেখা গেছে; এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রেজাউল করীমের এই সফরকে সরকারী দৃষ্টিতে কূটনৈতিক সফরের এক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অতএব, এই সফরটি কেবল ধর্মীয় দাওয়াতার সীমা নয়, বরং দেশের নরম শক্তি (soft power) বৃদ্ধির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়।

সফরের সময় রেজাউল করীমের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হল ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা, যাতে উভয় দেশের নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারে।” এই বক্তব্যে সরকারী ও ধর্মীয় বিশ্লেষকরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক চিত্র গঠনে সহায়ক হবে। তবে ফয়জুল করীমের পূর্বের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে টেনে সমালোচনাকারীরা রেজাউল করীমের সফরকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে দাওয়াতি’ বলে অভিযুক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা গিয়েছে, যেখানে কিছু নাগরিক সফরের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সফরের পর বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রেজাউল করীমের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন ও ধর্মীয় সংস্থার সঙ্গে গঠিত চুক্তির ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাংলাদেশি মুসলিম ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপ ব্যবস্থা এবং দু'দেশের মধ্যে ধর্মীয় সংলাপের ফোরাম স্থাপন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, সরকার রেজাউল করীমের সুপারিশ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক দাওয়াতি সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে, দেশীয় দাওয়াতি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দাওয়াতি সফরকে আরও কাঠামোগত করে, কূটনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং ধর্মীয় সংহতি বজায় থাকে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.