রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মাঝখানে আটকে পড়া বাংলাদেশী শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা গত তিন বছরে ৫৪-এ পৌঁছেছে। কর্মসংস্থানের স্বল্পতা ও উচ্চ বেতনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাশিয়ায় চাকরির সন্ধান করা তরুণদের মধ্যে একাধিক পরিবার শোকাহত হয়েছে। মৃতদেহের দেহ পাওয়া না যাওয়ায় পরিবারগুলো শোকের পাশাপাশি আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের শ্রম বাজারে গোপন ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
রাশিয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ সংস্থাগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করে আসছে। ২০২২ সালে যুদ্ধের সূচনা থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্তে অবস্থিত শ্রমিক ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল রয়েছে। অনেকেই ভিসা ও কাজের চুক্তি না দেখেই রাশিয়ায় পা রাখেন, ফলে যুদ্ধের গণ্ডিতে ধরা পড়ে। এছাড়া, রাশিয়ার অভ্যন্তরে চলমান সামরিক অভিযান ও বোমা হামলার ফলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “বহিরাগত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত না করা হলে এমন দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।” পরিবারগুলোর কাছ থেকে শোকের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি শোনা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক অধিকার গোষ্ঠীও রাশিয়ায় কাজ করা বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা দাবি করে।
সরকার ইতিমধ্যে রাশিয়ায় কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কনসুলার সেবা চালু করেছে এবং মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে। পাশাপাশি, অবৈধ নিয়োগ সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিকদের জন্য সঠিক ভিসা ও চুক্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারী তদারকি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে।