২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা শহরে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের সিদ্ধান্তে একাধিক বাধা কাটল। ট্রাস্টের পুরনো বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যা কার্যক্রমকে স্থবির করে রেখেছিল। আদালতের রায় অনুযায়ী নতুন ট্রাস্টি হিসেবে প্রখ্যাত সমাজসেবী শ্রীমতি রমেশা দাশকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগের পর ট্রাস্টের কার্যক্রমে পুনরায় গতি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে পুনরায় মনোযোগ দেওয়া হয়।
ট্রাস্টের ইতিহাস ১৯৭০ দশকে শুরু হয়, যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ২০১০ দশকে ট্রাস্টের বোর্ডে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দেয়, যা আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। আদালত ২০১৯ সালে ট্রাস্টের কার্যক্রমে বাধা কাটার জন্য নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা অনুসরণে ট্রাস্টের কার্যক্রমে ধীরগতির অবসান ঘটে।
নতুন ট্রাস্টি শ্রীমতি রমেশা দাশের বক্তব্যে তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে পুনরায় প্রাণ সঞ্চার করা। ট্রাস্টের সকল সদস্যকে একত্রে কাজ করতে হবে।" বোর্ডের পুরনো সদস্যরা তার বক্তব্যে সম্মতি জানায় এবং ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সমাজসেবী ও ধর্মীয় নেতারা তার নিয়োগকে স্বাগত জানায় এবং ট্রাস্টের কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা আশা করেন।
আদালত ও ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি বর্তমানে ট্রাস্টের কার্যক্রমে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। ভবিষ্যতে ট্রাস্টের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ট্রাস্টের অধীনে নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রকল্প শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।