প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
DPN TV
DPN TV <div>বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়</div><div>ঢাকা মিরপুর ১০</div><div>ব্লক বি, রোড নং ৬</div>
01577771678 | dpntv.com@gmail.com
রাজনীতি

আন্দোলনের সময় বিজেপি থেকে শরিকেরা কেন দূরে?

গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় স্তরের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের সঙ্গে যুক্তিবাদী দলবদ্ধতা গড়ে তোলার জন্য ভারতীয় জনমত গঠনকারী দল
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসাইন প্রকাশ: Oct 14, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 11:41 AM
আন্দোলনের সময় বিজেপি থেকে শরিকেরা কেন দূরে?

গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় স্তরের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের সঙ্গে যুক্তিবাদী দলবদ্ধতা গড়ে তোলার জন্য ভারতীয় জনমত গঠনকারী দল বিজেপি কিছু সময়ের জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছিল। তবে, আন্দোলনের শীর্ষে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সমর্থন হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের সঞ্চার ঘটায়। এই প্রত্যাহার কেবলমাত্র সমর্থকদের মনোবলকে প্রভাবিত করেনি, বরং প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, ফলে আন্দোলনের তীব্রতা ও দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপিএনের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পেছনে বহুস্তরীয় পটভূমি রয়েছে। পূর্বে বিজেপি, বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা করেছিল, বিশেষত বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায়। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচনী কৌশলগত পুনর্গঠন এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তন এই সহযোগিতাকে জটিল করে তুলেছে। তাছাড়া, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জনগণের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিজেপি নিজেকে দূরবর্তী অবস্থানে রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র ও বিশ্লেষকরা তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করেন। বিএনপি নেতা বলেন, “বিপিএনের এই অপ্রত্যাশিত প্রত্যাহার আমাদের আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতার প্রমাণ, যা দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।” অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের একজন উঁচু কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “বিপিএনের পদক্ষেপ আমাদের দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, তবে আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করা।” সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই প্রত্যাহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু অংশে এটি সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ায়, আবার অন্য অংশে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল আলোচনা চালু থাকে, যেখানে নাগরিকরা স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা দাবি করে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরনের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবকে কমাতে কূটনৈতিক নীতি পুনর্গঠন ও স্বদেশীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করার দিকে মনোযোগ দেবে। সরকার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করা হয় এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে না পড়ে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক হবে।

© 2026 DPN TV. All rights reserved.