দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিমসটেক (বহু-সামুদ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন) প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে একত্রিত করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি, বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের অনুপস্থিতি বৈঠকের কার্যকারিতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে।
বিমসটেকের প্রতিষ্ঠা ১৯৯৭ সালে গৃহীত হয়, তবে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরী কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীরগতিতে হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত এই সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে কোনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি; তাই এই প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনকে আঞ্চলিক সংহতির মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, পূর্বে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারী নীতির পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিদেশে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া, বৈঠকের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শেষ মুহূর্তে কিছু সমন্বয় না হওয়ায় চৌধুরীর দলকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা চৌধুরীর অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরিশ চন্দ্র পন্তে উল্লেখ করেন, “বিমসটেকের সাফল্যের জন্য সকল সদস্য দেশের সমন্বিত উপস্থিতি অপরিহার্য; বাংলাদেশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি আঞ্চলিক সংহতির জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।” তদুপরি, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুনথিলাকুমার গুনথিলাভা মন্তব্য করেন, “বিমসটেকের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রত্যেক দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, তাই এই ধরনের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে।” বাংলাদেশে সাধারণ জনগণও সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়ে তীব্র মতামত প্রকাশ করেছে; কিছু নাগরিক সরকারকে সমালোচনা করে, আবার অন্যরা নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের জন্য সমর্থন জানায়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে জানানো হয়েছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরীর অনুপস্থিতি অস্থায়ী নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জরুরি দেশীয় কাজের কারণে হয়েছে। সরকার দ্রুত একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলকে দিল্লিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে বৈঠকের মূল আলোচনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বিমসটেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা প্রোটোকল ও ভ্রমণ পরিকল্পনা পূর্বেই সমন্বয় করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার জোর দিয়েছে।