শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত শিখো‑প্রথম আলো উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন সম্মাননা অনুষ্ঠানে গর্বের সঙ্গে জানানো হয় যে, গড় জিপিএ‑৫ পয়েন্ট অর্জনকারী তাসমিয়া, রাত জেগে মায়ের লিখে দেওয়া নোটটি মনোযোগ সহকারে পড়ে তার শিক্ষাগত সাফল্য অর্জন করেছে। তাসমিয়ার মা কোহিনুর পারভীনকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন, আর তাসমিয়ার পিতা আতিকুল ইসলামও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। নোটে মায়ের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা ও পরামর্শ তাসমিয়ার মনোবলকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গিয়েছিল, যা তার ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তাসমিয়ার শিক্ষাজীবনের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থানীয় ফলাফল অর্জন করে আসছেন, তবে গ্রীষ্মকালীন পরীক্ষার প্রস্তুতি সময়ে পারিবারিক আর্থিক সংকট ও সময়ের সীমাবদ্ধতা তাকে প্রায়ই বাধা দিত। এমন পরিস্থিতিতে পারভীন মায়ের হাতে লেখা নোটটি তাসমিয়ার জন্য এক ধরনের মানসিক সাপোর্টের কাজ করে। নোটে মায়ের লেখা ছিল, 'তুমি যদি নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, তবে কোনো বাধা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়', এবং কিছু ব্যবহারিক অধ্যয়ন পরিকল্পনা। এই নোটটি তাসমিয়ার রাতের অধ্যয়ন সেশনে আলোকপাত করে, যা তার মনোযোগকে পুনরুজ্জীবিত করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পারভীন মায়ের মন্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, 'তাসমিয়া যখন এই নোটটি পড়ে, তখন তার চোখে নতুন স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠেছিল; আমি গর্বিত যে আমার ছোট্ট কথাই তার বড় সাফল্যের সোপান হতে পেরেছে'। পিতা আতিকুল ইসলামও তাসমিয়ার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করে বলেছিলেন, 'শিক্ষা হল পরিবারিক সমর্থনের ফল, তাসমিয়ার এই সাফল্য আমাদের সকলের জন্য উদাহরণ'। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসমিয়ার অধ্যবসায়কে প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, 'এ ধরনের আত্মপ্রেরণা শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে'। তাসমিয়ার সাফল্য স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যেখানে বহু অভিভাবক এখন সন্তানদের সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে শিক্ষার আলোচনায় যুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাসমিয়ার সাফল্যকে উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরে, ভবিষ্যতে পারিবারিক সমর্থন ও শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বিদ্যালয় তাসমিয়াকে সম্মাননা পত্র ও স্কলারশিপ প্রদান করেছে, পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, 'অভিভাবকের মানসিক সমর্থন ও সঠিক নির্দেশনা শিক্ষার্থীর ফলাফল উন্নতিতে অপরিহার্য'। তাসমিয়ার কাহিনী এখন জাতীয় পর্যায়ে প্রচারিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বপ্ন অনুসরণ করতে উৎসাহিত করবে।